অলি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই ধর্ষন মামলা।

0
36
 সোহান সোহাগ মনপুরা প্রতিনিধিঃ- আগামী ইউপি নির্বাচনে ভোলার মনপুরা উপজেলায় দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করায় এক গৃহবধূকে দিয়ে প্রার্থীর ছেলের নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলের বিরুদ্ধে। এছাড়াও কেউ চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেই চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সকল লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার। বুধবার বিকালে ভোলার শহরের একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এসকল অভিযোগ করেন সাকুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি সাকুচিয়া ইউনিয়নের টানা তিনবারের ইউপি সদস্য ছিলাম। স্থানীয়ভাবে আমার রাজনৈতিক সুনাম রয়েছে। আমার এ রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলের নেতৃত্বে একটি মহল আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মনপুরা থানায় আমার ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনাম হাওলাদারে বিরুদ্ধে একজন গৃহবধূকে দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা করিয়েছেন। মামলায় যে সময় গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ করেছে সে সময় আমার ছেলে এনামের স্ত্রীর সন্তান প্রসব করায় সে চরফ্যাশনের তার শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। মূলত ওই গৃহবধূর শ্বশুরের সাথে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জমি নিয়ে আমাদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল তাদের দিয়ে এ মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করিয়েছে। এমনকি মামলা করার দিন ওই গৃহবধূকে অলিউল্লাহ কাজল তার নিজের মাইক্রোতে করে মনপুরা থানায় মামলা করতে নিয়ে গেছেন।
এর আগেও এই চেয়ারম্যান আমার ছেলে এনামের বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষিকাকে দিয়ে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করিয়েছেন। যা আদালতে বিচারধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, আমি দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন থেকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করি। আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তিনবারের সাবেক ইউপি সদস্য। তাই আমার পক্ষে জনগণের সমর্থন বেশি। আমার জরপ্রিয়তা দেখে বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল একের পর এক আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ইউনিয়নে তিনি বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। কেউ এগুলোর প্রতিবাদ করলেই চেয়ারম্যান তাদের বিরুদ্ধে অসহায় মহিলাদের দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এর প্রমাণ হলো দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির সরদার। এই দুজনের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান বিভিন্ন মহিলাদের দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়েছে। পরবর্তীতে মেডিকেল রিপোর্টে নজরুলের মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে আমার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর হাওলাদার। আমি কাউকে দিয়ে মামলা দেইনি। একজন শিক্ষক কখনও কি আমার কথায় নিজের ইজ্জত বিষর্জন দিয়ে মামলা দেবে? সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সাকুচিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. শহিদ মোল্লা, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মাকসুদ ও মো. আবুল হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here