কমলগঞ্জ শমশেরনগর  বাজারের সব ময়লা   রাস্তার পাশে দুর্গন্ধের কারণে স্কুলের  ছাত্রছাত্রী  ক্লাস করতে  পারে না

0
59

আলমগীর হোসেন ,কমলগঞ্জ,মৌলভীবাজারঃঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের জন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র শমশেরনগর।   সপ্তাহে দুই দিন হাটবার হলেও প্রতিদিন এ বাজারের দুটি কাঁচাবাজার ক্রয় বিক্রিয়ে রাত পর্যন্ত সরগরম থাকে। রাতে এ ব্যস্ত দুটি কাঁচা বাজারের সব ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় শমশেরনগর-কমলগঞ্জ সড়কের হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ ব্যিালয়ের সামনের প্রধান ও আইডিয়াল  কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের সামনে  মুখে। এই ময়লার ভাগাড়ে পাড়ি দিয়ে যেথে হয ছোট ছোট স্কুলের শিক্ষার্থীদের।

অন্যদিকে ময়লার ভাগাড়ে দুর্গন্ধে ছড়িয়ে  যেমন  দূষিত পরিবেশ। এভাবে নিত্যই ফেলে রাখা হয় ময়লা,  প্রধান নালার মুখ ময়লায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাছ বাজারের পয় নিষ্কাশনের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করছে ময়লা পানি। দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের ময়লা আবর্জনা নালার মুখে না ফেলার জন্য জানালেও কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা কোন আপত্তি মানছেন না।

শমশেরনগর একটি ইউনিয়ন সদর হলেও কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ব্যবসা বাণিজ্যেসহ বিভিন্নভাবে সমৃদ্ধ। কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ২৫ ইউনিয়নের দৈনন্দিন হাট বাজার হয় শমশেরনগরে। ক্রমে শমশেরনগর কমলগঞ্জ উপজেলার মাঝে একটি অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।  শনিবার সকালে সরেজমিন শমশেরনগর হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের প্রধান নালার মুখে গিয়ে দেখা যায় দুটি কাঁচা বাজারের ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে নালার মুখ। পাশের চা বাগানের টিলার পানি, মাছ বাজারের ও আবাসিক এলাকার পয়নিষ্কাশন হয় এ নালা দিয়ে। এ নালার মুখ আবর্জনায় বন্ধ হওয়ায় মাছ বাজারের প্রবাহিত ময়লা পানি প্রতিবন্ধকতায় নালা থেকে উপচে পড়ছে ময়লা পানি।

এ ময়লা পানি নালা থেকে উপচে গিয়ে পাশের আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে।  আইডিয়াল কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম, পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নিলয় মিয়া বলেন আমাদের স্কুলে ময়লা ফেলে রাখার কারণে ওদিকে যাতায়াত করতে   অনেক সমস্যা হয় এবং দুর্গন্ধের কারণে আমরা স্কুলে ক্লাস করতে পারিনা। আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক সৈয়দ হারুন শিপু অভিযোগ করে বলেন, বাজার ইজারাদার এ নালা নিযমিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কথা থাকলেও তিনি তা করছেন না।

মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা দিনে ব্যবসা করে সন্ধ্যার পর স্কুলের ফটকের সামনে দেয়াল ঘেসে ময়লা আবর্জনাও ফেলে যান। অন্য দিকে হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের প্রধান নালার মুখ ময়লা আবর্জনায় ভরে গেলে মাছ বাজারের ময়লা পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে উপচে এ স্কুলের ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। বিষয়টি শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দকে অবহিত করে কোন কাজ হচ্ছে না। শিক্ষক সৈয়দ হারুন শিপু আরও বলেন, গত দেড় মাসে তারের অধ্যক্ষ নিজ উদ্যোগে বাজার ইজারাদারকে নিয়ে প্রধান নালার মুখ থেকে ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে ও স্কুলের সামনের নালা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ছিলেন।

তারপর আবারও কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা ও মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে নালার মুখ বন্ধ করে রাখেন। শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, এক শ্রেণির অসচেতন ব্যবসায়ীরা আবর্জনা ফেলে নালার মুখ বন্ধ করেছেন। এমনকি আইডিয়াল কেজি স্কুলের সামনে আবর্জনা ফেলছেন। নালাল মুখ থেকে আবর্জনা অপসারণ করে ও স্কুলের সামনের নালা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী খোঁছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফেলেই নালা পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা গ্রহন করছেন। শমশেরনগর বাজার ইজারাদার আশাইদ মিয়া বলেন, তিনি নিয়মিত নালা পরিষ্কার করলেও আবার ব্যবসায়ীরা আবর্জনা ফেলে বন্ধ করে দেয়। স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্নাকর্মীর অভাব থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী খোঁজে পাওয়া যায় না। তার পরও স্কুলে সাসমনের ময়লা আবর্জনাসহ নালার মুখের আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নিবেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান নালার মুখের ওপরে ঢালাই বন্ধ করে দিতে বলেছেন। সাথে সাথে স্কুলের সামনের নালা পরিষ্কার করে দিতে ইজারাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here