বাঘায় অবাধে চলছে পুকুর খনন, প্রশাসন নিরব

0
14
 বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
এ বছর লোক চক্ষুর আড়াল করে রাতের আঁধারেই শুরু হয়েছিল অবৈধ পুকুর খননের কাজ। কিন্তুু প্রশাসন নিরব থাকায় বর্তমানে আগের বছর গুলোর মতোই দিনের আলোয় চলছে অবাধে পুকুর খনন।
আর এই পুকুর খননের মাটি পরিবহন করতে পাকা রাস্তা হচ্ছে নষ্ট। কমে যাচ্ছে ফসলের আবাদি জমি। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্যাপক হারে মারা যাচ্ছে এ এলাকার প্রধান ফসল আমের গাছ। তাই এই পুকুর খনন কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ। আর এ দিকে অজানা কারণে প্রশাসন রয়েছন নিরব। বারংবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কোন পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
জানা যায়, প্রতি বছরই প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনকে মেনেজ করে মহোৎসবে খনন করা হয় অবৈধ পুকুর। জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’এমন সরকারি নির্দেশনা ও হাই কোর্টের রিট থাকলেও উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিলে অবৈধ পুকুর খনন করে ছয়লাপ করেছে অসাধু পুকুর ব্যবসয়ীরা। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।এক শ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ীরা অসহায় গরীব কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ও লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে। আর কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ী। সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার তেঁথুলিয়া কামার পাড়ার বিল, আড়পাড়ার বিল,বলিহারের বিল, হরিনার বিল, চাকি পাড়া, চন্ডিপুর, বারোখা দিয়ার বিল, আরিফপুর,ধন্দর বিল,পীরগাছার বিল, আমোরপুর, দিঘা, আড়ানী সহ প্রায় সব বিলেই রমরমা চলছে পুকুর খননের ব্যাবসা। প্রশাসন দেখেও যেন দেখছেনা। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় বাটা ইট ভাটার মালিক হাজী আলাউদ্দিন যেন পুকুর খননের অনুমতি পত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
একাধিক পুকুর খননকারীরা সাংবাদিকদের কে একই কথা বলে যে পুকুর কাটার অনুমতি নিয়েছি। অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে ভাটা মালিক আলাউদ্দীন এর কাছে আছে বলে জানান। তবে ভাটা মালিক আলাউদ্দীন তিনি পুকুর খননের কোন অনুমতি দেখাতে পারেন নি। এক শ্রেনীর কতিপয় প্রভাবশালী নেতা পুকুর খননের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলেন,অনেক উপরের তদবির আছে। কেউ কেউ আবার স্থানীয় সাংসদ এর সাথে ভালো যোগাযোগ আছে, তিনি অনুমতিও দিয়েছেন এমন কথা বলেন সাংবাদিকদের। পুকুর খননের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামাল হোসেন বলেন, তিনি ট্রেনীং এর জন্য কয়েক মাস ছুটিতে ছিলেন তাই পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, পুকুর খননের মাটি টলি বোঝাই করে অনত্র নেওয়ার সময় রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here