বাঘায় ছিনতাই মামলা থেকে বাঁচতে পাল্টা হয়রানি মূলক অপহরণ মামলা

0
11

রাজশাহী,প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিব হোসেনের দায়ের কৃত ছিনতাই মামলা হতে বাঁচতে ঢাল হিসেবে ১নং আসামির মেয়েকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত সমবার (১৯ এপ্রিল) ছিনতাই মামলার ১ নং আসামি সাহিনুর আযমের স্ত্রী রাসিদা বেগম বাদী হয়ে বাঘা থানায় মামলাটি করেন। আরজিতে বাদী রাসিদা বেগম বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রী(১৪) রোববার (১৮ এপ্রিল) মায়ের সাথে চাচার বাড়ি থেকে ইফতার শেষে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তারা দেলোয়ার মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌছলে উপজেলার মনিগ্রাম দক্ষিন পাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রাজিব (২৩), হায়দার আলীর ছেলে সাজদুল ইসলাম (২০), কামাল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম (২২) পথরোধ করে টেনে হেঁচড়ে মায়ের সামনে জোর পূর্বক অপহরনের চেষ্টা করে। এ সময় তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্যঃ অপহরন মামলার ১ নং আসামী রাজিব আলী এক দিন আগে ( রোববার ১৮ এপ্রিল) রাতে ৫ জন কে আসামি করে বাঘা থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। রাজিব তার দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, চিকিৎসাধীন থাকায় আমার চাচা রকসেদ আলী তার ব্যাবসায়িক পার্টনার মুঞ্জুরুল হক কে দেওয়ার জন্য নগদ এক লক্ষ টাকা দেয়। যা আমার প্যান্টের পকেটে ছিল। আমার বাড়ি থেকে বাই সাইকেল যোগে বাজারে যাওয়ার সময় রফিকুল মাস্টারের নতুন বাড়ির সামনে রাস্তায় পৌছালে আসামী শাহীনুর আযম (৪০), আবুল কালাম আজাদ হেনা (৫২) উভয় পিতাঃ মৃত আতাউর রহমান মাস্টার, মতিউর রহমান জয় (২৩) পিতাঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, আব্দুস সালাম (৪৮), জাহাঙ্গীর আলম বাদশা (৪৫) উভয়ের পিতাঃমৃত আতাউর রহমান মাস্টার।

সর্ব সাং মনিগ্রাম। আসামি গন লাঠি, লোহার রড,লোহার পাইপ ইত্যাদি সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার সাইকেলর সামনে দাঁড়িয়ে পথ রোধ করে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে, আমি নিষেধ করলে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে। ১ নং আসামি শাহীনুর আযম আমার পকেটে থাকা নগদ এক লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী মামুন, কাবিল হোসেন, আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার ১৮ এপ্রিল রাজিবকে মারপিট ও ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সঠিক। মনিগ্রাম বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রকসেদ আলী বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় আমার ভাতিজা রাজিবের মারফত আমার ব্যবসায়ীক পার্টনার মুঞ্জুরুলকে দেওয়ার জন্য এক লক্ষ টাকা দিই। বাজারে যাওয়ার পথে ছিনতাই কারীরা রাজিব কে মারপিট করে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার পরের দিন ছিনতাই মামলার ১নং আসামী শাহীনুর আযমের স্ত্রী রাসীদা বেগম রাজিব কে ১নং আসামী করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন,উদ্দেশ্য প্রনোদীত। ছিনতাই মামলা থেকে বাঁচতেই কেবল হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে তারা। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আব্দুল বারী বলেন, মনিগ্রামের দুটি ঘটনায় পৃথক পৃথক দুটি মামলা হয়েছে । আসামী আটকের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here