মর্গে পাহারা দেওয়ার সুযোগে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করতো ‘মুন্না,

0
7

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঢাকা : পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করার মত জঘন্যতম অপরাধে অভিযুক্ত মুন্না ভগতকে (২০) আটক করেছে । সে মর্গে লাশ পাহারা দেওয়ার সুযোগে অপঘাতে মারা যাওয়া অল্প বয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করে আসছিল। নিকৃষ্টতম এই অপরাধীকে ধরতে সিআইডিকে নিতে হয় ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগ। তাদের মাঝে একজনের স্বজন গুম হয়েছে বলে বারবার আসেন হাসপাতালের মর্গে। এই সুযোগে মুন্নার সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা। রাত ১ টা বা ২টার দিকেও সিআইডির লোকজন তদন্তের স্বার্থে অভিনয় করতে মুন্নার সাথে মর্গে আসেন। বারবার ছবি দেখিয়ে জানতে চান এই চেহারার কোনো লাশ এসেছে কিনা। সম্পর্ক গাঢ় হলে এক পর্যায়ে মুন্নার পান করা সিগারেটের ফিল্টার গোপনে সংগ্রহ করেন তারা। সেই ফিল্টারে লেগে থাকা মুন্নার ডিএনএ টেস্ট করা হয়। দেখা যায় ধর্ষণের শিকার মৃত ওই ৫ কিশোরীর দেহে পাওয়া ডিএনএ’র সাথে তা পুরোপুরি মিলে যায়। এর আগে ‘কোডেক্স’ নামে সফটওয়্যারে নিহতদের ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৫টি মৃতদেহে এক ব্যক্তির ডিএনএ আছে। ধর্ষণের শিকার ৫ জনই কিশোরী। তাদের সবার বয়স ১১ থেকে ১৭ বছরের মাঝে। সবাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এদের মাঝে একজন বাদে সবাই মিরপুরের। ২ টি ঘটেছে ২০১৯ সালের মার্চ ও অক্টোবর মাসে। বাকি তিনটির একটি এ বছরের মার্চ ও ২টি আগস্ট মাসে ঘটেছে। সিআইডির ধারণা হয় কোনো সিরিয়াল কিলার এই খুনগুলো করে থাকতে পারে। তাকে ধরলে এরকম হত্যাকান্ড চলতেই থাকবে। এরপর সিআইডির সদস্যরা মোহোম্মদপুর ও কাফরুল থানায় হওয়া ৫টি অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। তাতে তারা জানতে পারেন, ৫টি মামলার ভিক্টিমের সুরতহালে কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রতিটি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে। এছাড়া, প্রত্যেক ভিক্টিম দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ৩টি ঘটনায় স্বজনদের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। সব মিলিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আসেন তাদের প্রাথমিক ধারণা ভুল। এরপরই ওই অভিনয়ের আশ্রয় নেয় সিআইডি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here