মা-বাবার পাশে সমাহিত হলেন ম্যারাডোনা

0
7

মো: সুমন হোসেন , প্রতবিদেক বঙ্গনিউজ :২০২০ সালটা যেন বিষে ভরা বিশ। সব অর্থেই যেন এটি ভুলে যাওয়ার বছর হয়ে থাকল গোটা বিশ্ববাসীর কাছে। প্রথমে করোনা ভোগাল সবাইকে, আর বছর শেষের আগে বিষাদে পূর্ণ করল ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে। গত বুধবার বাংলাদেশ সময় পৌনে ১১টায় ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর প্রকাশ হলে শোকের আঁধার নেমে আসে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশের সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মান প্রদর্শনের পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর সমাহিত করা হয়েছে ম্যারাডোনার মরদেহ। বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আইরেসে নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফুটবল ইতিহাসের এ মহানায়ক। মাত্র কয়েকদিন আগেই রক্তক্ষরণজনিত কারণে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ কফিনে করে ম্যারাডোনার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে। আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা ও ম্যারাডোনার ট্রেডমার্ক ১০ নম্বর জার্সি দিয়ে মুড়ে দেয়া ছিল ম্যারাডোনার কফিন। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে বুয়েন্স আইরেসের রাস্তায়। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আলবার্তোর বাসভবনে ম্যারাডোনার মৃতদেহ দেখেন সাবেক স্ত্রী ক্লদিয়া ভিয়াফেন ও দুই কন্যা দালমা ও জিয়ান্নিনা। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি ছেলে ডিয়েগো জুনিয়রের। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ইতালির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে শেষশ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। ম্যারাডোনার কফিন একপলক দেখতে ঢল নামে বুয়েনস এইরেসের রাস্তায়। ১০ লাখের বেশি লোক জড়ো হয় তাদের স্বপ্নের নায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে। আমজনতাকে সামলাতে বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও। পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষেও জড়ান তারা। রক্তাক্ত হন বেশ কয়েকজন, তার পরও সরে যাননি তারা। একটি বারের জন্য হলেও শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে যেতে চান প্রিয় মানুষটির কফিনে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কিংবদন্তি ফুটবলারের মৃত্যুর কারণ ছিল হদরোগ। ময় নাতদন্ত শেষেও বদলায়নি মৃত্যুর কারণ। সান ইসিদ্রো অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে জানানো হয়েছে গতকাল স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টায় ম্যারাডোনাকে তার বিছানায় পাওয়া যায়। তাকে জাগানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন উপস্থিত লোকজন। ২০০০ সাল থেকেই হদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনার জীবনরেখা: জীবনে যেমন পেয়েছেন তেমনি হারিয়েছেনও ম্যারাডোনা। ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর জন্ম নেন এক শ্রমিকের ঘরে। বাল্যকাল থেকেই কষ্ট তার নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু পায়ে বল থাকলেই হয়ে যান বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ। দুর্দান্ত প্রতিভার কারণে মাত্র ১২ বছর বয়সেই সুযোগ পেয়ে যান স্থানীয় আর্জেন্টিনোজুনিয়র্স টিমের মূল দলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। পাঁচ বছরে ক্লাবটির হয়ে ১৬৬ ম্যাচে করেন ১১২ গোল। তার পরও সুযোগ পাননি ১৯৭৮ বিশ্বকাপ দলে। তবে থামেননি ম্যারাডোনা। হতাশায় মুষড়ে না পড়ে পায়ের জাদু দেখিয়েছেন অবিরত। ১৯৮১ সালে যোগ দেন স্বপ্নের ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ হয় ১৯৮২ বিশ্বকাপে। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেবার লাল কার্ডে হয়েছিল তার সমাপ্তি। সেই ক্ষোভেই হয়তো ১৯৮৬ বিশ্বকাপটা নিজের করে নেন ম্যারাডোনা। একাই যে একটা দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেয়া যায়- সৃষ্টি করেন সেই অনন্য উদাহরণ। পরবর্তী বিশ্বকাপেও বজায় রাখেন ধারা। তবে সেবার ‘রেফারির কারসাজিতে’ শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তো নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবন করায় বাদই পড়েন টুর্নামেন্ট থেকে। যে কারণে আজীবন ঘৃণা করে এসেছেন আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছিল তার শেষ ম্যাচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here