বড়াইগ্রামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

0
14

মোঃ মুঞ্জুরুল হক সুজন নাটোর (বড়াইগ্রাম)প্রতিনিধিঃ

নাটোরের বড়াইগ্রামে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। রাত ১২টা ১মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদের স্বরণ করেন সবাই।

এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, আজম আলী ডিগ্রী কলেজ, বাংলাদেশ স্যাপার ল্যান্ড স্কুল, লাইফ প্রিপোরেটরী স্কুল(এল,পি,এস), আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,আহমেদপুর বাসস্ট্যান্ড কমিটি, শ্রমিক সংগঠন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন,আহমেদপুর বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা সৈনিক ও ভাষা শহীদদের প্রতি জানান বিনম্র শ্রদ্ধা।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন বায়ান্ন’র ২১ ফেব্রুয়ারীর সকল শহীদদের।রক্ত রাঙ্গা ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মাতৃভাষা বাংলার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সে দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে এসে পুলিশের গুলিকে পরোয়া না করে নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার থাকেন। সে দিন ছাত্ররা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মাতৃভাষার মহিমা প্রতিষ্ঠায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। তাদের এই মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে রচিত হয়েছে আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রথম সোপান।

বায়ান্ন সালের ২১’শের পথ ধরেই এদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম সম্প্রসারিত হয়ে অর্জিত হয়েছে। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা এবং আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার স্বাদ। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলা কে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সরকারী স্বীকৃতি না দিয়ে তৎকালীন পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এদেশের উপর নিজেদের সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখতে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল-এদেশকে স্থায়ীভাবে পরাধীন রাখার জন্য। কিন্তু ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে তা প্রতিরোধ করেন। ৫২’র ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিতার কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। পাশাপাশি ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানান। তাঁদের পরিবারের সুখ, শান্তি ও দীর্ঘায়ূ কামনা করেন। সালাম,বরকত,রফিক,শফিক,জব্বার সহ বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় এদেশের রাজপথ। রক্তস্নাত সেই অমর একুশে আজ। বাঙ্গালি জাতির শোকের ও গৌরবের দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here