কুয়াকাটার মেয়র আনোয়ার হাওলাদের নেতৃত্বে ৫০ বছরে পরিত্যক্ত পুকুরটি, আজকে লেক পার্কে পরিণত হবে

0
19

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা- কলাপাড়া, (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:-

বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত সাগরকন্যা কুয়াকাটা, সূর্যোদয় আর সূর্য অস্ত উপভোগ করার জন্য ও কুয়াকাটার সৌন্দর্যকে আরো সুন্দর রূপ দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন কুয়াকাটার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, পর্যটকদের জন্য তৈরি করছে অপরূপ সৌন্দর্যের স্থান সমুদ্রের কোল ঘেঁষে তৈরি করা হচ্ছে মুক্ত বাতাসে বসে থাকার মত লেক পার্ক। কুয়াকাটায় ৫০ বছর ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা একটি বদ্ধ জলাশয়কে দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক পার্ক লেক করা হচ্ছে। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে লেকটি।

কুয়াকাটা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদার নিজস্ব অর্থায়নে বিনোদনমুখী এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। আগামী পর্যটন মৌসুমের আগেই এটি চালু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেকটিতে থাকবে প্যাডেল নৌকা। লেকের চারপাশে বিভিন্ন কালারের লাইটিং, সৈকতে গোসল করে এসে পর্যটকদের মিষ্টি পানিতে গোসল করার জন্য ড্রেস চেঞ্জিং রুম, লেকের মাঝে তিনটি গোলাকার ভাসমান ওয়াটার প্রুফ লাইটিং ঝাড় ও মিউজিক লাইট, চারপাশে ৮ ফুট রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে থাকবে বসার স্থান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের কোলঘেঁষে বেড়িবাঁধের বাইরে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির স্রোতে ৪ একর জায়গা নিয়ে একটি বিশাল দিঘী তৈরি হয়। সেই থেকে ৫০ বছর ধরে দিঘীটি ছিল বদ্ধ জলাশয়। কচুরিপানাসহ বনজ লতাপাতা ও ময়লা আবর্জনায় ভরপুর ছিল দিঘীটি। সারাবছর মিষ্টি পানি থাকলেও সংরক্ষণের অভাবে মানুষ পানি ব্যবহার করতো না। কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জলাশয়টি থাকলেও পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়নি কেউ। অথচ কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা একটি মিষ্টি পানির লেক বা পুকুরের অভাব অনুভব করেছেন এত বছর। সরকারিভাবে এটি বহুবার পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

নবনির্বাচিত মেয়র দায়িত্বে আসার পরপরই নজরে আসে অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা এ জলাশয়। বর্তমানে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে এটিকে অত্যাধুনিক পার্ক লেক করার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যটকবান্ধব ও বিনোদনপ্রেমী মেয়র আনোয়ার হাওলাদার নিজ অর্থায়নে এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি এতদিন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে ছিল। মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জনি আলমগীর বলেন, বর্তমান মেয়রের কাজ দেখে বলতে পারি একজন বিনোদনবান্ধব মেয়র পেয়েছে কুয়াকাটাবাসী। তার ভালো কাজে আমরা সবাই পাশে থাকব। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ভোটের আগে জনগণকে কথা দিয়েছিলাম নির্বাচিত হতে পারলে আপনাদের নিয়ে কাজ করব। পৌরসভায় যতগুলো সরকারি জায়গা রয়েছে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শোভাবর্ধন করে পর্যটকদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ৫০ বছরের পরিত্যক্ত জলাশয়টি পরিষ্কার করছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় সুন্দর একটি নাম দিয়ে এটি উদ্বোধন করবেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, মেয়র সাহেব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকার যে কোনো ভালো কাজের সহযোগিতায় বদ্ধপরিকর। মুক্ত আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসের সুরের সাথে বসে থেকে সময় পার করার একটি স্থান তৈরি করছে কুয়াকাটা জননন্দিত মেয়র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here