ঝিনাইদহ মহেশপুরে হিন্দু মেয়েকে নিয়ে মুসলমান ছেলে উধাও:

0
10

 মোঃ ইনছান আলী জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ ০২-০৩-২১ইং :

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কলেজ পড়ুয়া এক হিন্দু মেয়েকে নিয়ে শাহিন (১৯) নামে মুসলমান এক যুবক উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত শাহিন উপজেলার যোগী হুদা বসতী পাড়ার মোঃ সাজাহান আলীর ছেলে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা শ্রী বঙ্গবন্ধু ঘোষ বাদি হয়ে ৮জনকে আসামি করে গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি মহেশপুর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৬৭,ধারা- ৭/৩০, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৬। মামলার এজাহারে মেয়ের বাবা বঙ্গবন্ধু ঘোষ জানান, গত জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখে তার মেয়ে প্রাইভেট পড়ে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে না গেলে সে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পথচারী স্থানীয় লোকজন তাকে অবহিত করেন যে, তার মেয়েকে গোডাউন মোড় থেকে শাহিন নামে ছেলেটি জোর পূর্বক ইজিবাইকে উঠায়ে যোগীহুদা গ্রামের দিকে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সেসময় সাথে থাকা সাক্ষীগন রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মন্টু ঘোষের ছেলে শৈলেন ঘোষ (৪৫), মৃত কানাই ঘোষের ছেলে শ্রী অশোক ঘোষ (৪৪) এবং কাশিপুর গ্রামের নির্মল চন্দ্র ঘোষের ছেলে শ্রী বলাই ঘোষ এদেরকে নিয়ে যোগীহুদা গ্রামে শাহিনের বাড়িতে যায়। সেখানে উপস্থিত থাকা শাহিনের পরিবারের লোকজনের কাছে তার মেয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। পরে তিনি আরও জানতে পারেন যে, তার মেয়েকে নিয়ে প্রথমে এজাহারে উল্লেখিত ৭নং আসামি মৌসুমীর বাড়িতে আটক করে রাখে, পরে অজ্ঞাত জায়গায় আটক করে রেখেছেন। তিনি বলেন, অপহরণকারী শাহিনের বাবা ঘর জামাই সুত্রে কাশিপুর গ্রামে আমাদের বাড়ির পাশে পরিবার সহ বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে থাকতে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। আমার মেয়ের সম্মতি না থাকায় কোন সুযোগ গ্রহণ করতে পারেনি। গত দেড় দুই মাস তাদের পৈত্রিক এলাকা যোগীহুদা গ্রামে বাড়ি করে সেখানে সবাই চলে গেছে। যে কারনে এই অপকর্ম করার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন,আমি এবং অপহরণকারী ভিন্ন ধর্মী তাছাড়া আমার মেয়ে নাবিলাকা, আমি প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, শাহিনের বাবা তাদের পরিবারসহ কাশিপুর গ্রামে শশুর বাড়িতে ঘর জামাই থাকতেন। সদ্য এক থেকে দেড় মাস হলো যোগীহুদা গ্রামে বাড়ি করেছে বলে আমি শুনেছি। তিনি বলেন, শাহিনকে আমি কখনও দেখিনি এমনকি তাদের পরিবারের কাউকে আমি চিনিওনা। তিনি আরও বলেন, গত ১ বছর হলো যোগী হুদা গ্রামের আবুল কাশেমের সাথে আমি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে স্ব ইচ্ছায় মুসলমান হয়ে বিবাহ করেছি। এ ঘটনার পর যোগীহুদা গ্রামের মাইক্রো কাশেম নামে একজন প্রতিনিয়ত আমার শশুর বাড়িতে এসে হুমকি ধামকিসহ আমার সম্মানহানী মূলক কার্যকলাপ করে যাচ্ছেন। শশুর বাড়ীর সাথে মাইক্রো কাশেমের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং আমি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে বিয়ে করেছি যা ঘটনার সাথে পুরোপুরি মিলে যাওয়ার সুযোগে আমাকে সহযোগি হিসাবে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন কাজের সাথে আমি কখনই জড়িত নয়, এমনকি তাদেরকে আমি চিনিনা কখনও দেখিনি । এটা সম্পুর্ন মনগড়া ভাবে আমার শশুরদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ও আমার সম্মান হানির চেষ্টা করেছে মাইক্রো কাশেম। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ও সহযোগিতা করার অপরাধে ছেলের মামা নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি সহ বাকিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here