তাহিরপুরে বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

0
15

শওকত হাসান, তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ-
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবারের বন্যা। তিনদিন ছিলোনা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ।কয়েক দিনের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে তাহিরপুরের নদ নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬জুন) রাত পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার উত্তর শ্রীপুর, তাহিরপুর সদর, বড়দল দক্ষিণ, দক্ষিণ শ্রীপুর, বাদাঘাট, বালিজুরী ইউনিয়নের প্রায় ২’শ টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গ্রাম ছাড়া হয়েছে হাজারো পরিবার।

বন্যায় এক রাতে কারো ঘরে গলা পানি, কারো ঘরে হাটু পানি, কারো ঘরে বুক পানি। ছেলে মেয়ে, গরু ছাগলি, গোলাভরা ধান নিয়ে দিশেহারা বানভাসি মানুষ। নষ্ট হয়েছে কৃষকের কষ্টের অর্জন হাজার হাজার মন ধান, গোখাদ্য, ঘরবাড়ি আসবাবপত্র। মারা গেছে গরু ছাগল, হাস মুরগি।উপজেলার সবকটি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষে ভরপুর। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি পর্যটক বাহী নৌকাতে পরিবার নিয়ে উটেছে বানভাসি মানুষ।

তিনদিন যাবৎ নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই কোন ধরনের ইন্টারনেট। নিজের খবর ছাড়া আর কারো খবর নেয়ার কোন ব্যবস্থা ছিলনা। জেনারেটরের মাধ্যমে প্রতি মোবাইল ২০থেকে ৩০টাকায় চার্জ করছে তারা। এছাড়াও বন্যা হতেই পণ্যের দাম রাতারাতি বাড়িয়ে নিয়েছে তাহিরপুর বাজার সহ উপজেলার বেশ কয়টি বাজারের ব্যবসায়ীরা।জানাজায়, তাহিরপুরে অতীতে হয়ে যাওয়া ১৯৭৪, ১৯৮৮ ও ২০০৪ এর বন্যার রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এবারের বন্যায় হাওর পাড়ে থাকা তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী, গৌবিন্দশ্রী, গাজিপুর সহ উপজেলার হাওর পাড়ের গ্রাম গুলো হাওরের ঢেউয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে এখন আর নিজ ঘরে থাকার অবস্থায় নেই।

তাহিরপুর সদর ইউপি সদস্য রতনশ্রী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন আকসান জানান, এত পানি আর ঢেউ জীবনেও দেখিনি, স্ত্রী সন্তান নিয়ে জীবন বাচিয়ে খালি হাতে এখন নৌকায় আশ্রয় নিয়েছি। হাওরের আফালে (ঢেউ) আমাদের রতনশ্রী গ্রামের আমার নিজের ঘর সহ ৮০ভাগ ঘরেই এমন ভাবে ভেঙে গেছে থাকার অবস্থায় নেই।ভাটি তাহিরপুর গ্রামের মনিরাজ শাহ জানান, বৃহস্পতিবার (১৬জুন) রাতে ঘরের ভিটার নিচে পানি রেখে ঘুমিয়েছিলাম। ভোর রাতে উঠে দেখি ঘরে হাটু পানি আর শনির হাওরের উত্ততাল ঢেউ ঘরের সব কিছু বাসিয়ে নিয়ে গেছে। কিছুই আনতে পারিনি পরনের কাপড় ছাড়া। ৩০মণ ধান, ঘরে থাকা ২০হাজার টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আমার ও ভাই বোনের স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট সহ সব ভেসে গেছে হাওড়ের উত্তাল ঢউয়ে।

শুক্রবার (১৭জুন) সকাল থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া বানভাসি মানুষের খুঁজখবর নেন ও রান্নাকরা খাবার পৌছে দেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হায় কবির। এছাড়াও রবিবার (১৯জুন) সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন কে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খুজখবর নিতে ও ত্রান বিতরন করতে দেখা যায়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, উপজেলা প্রশাসনের ০৫ টি টিম উপজেলাব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা ও বন্যার্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ কাজে নিয়োজিত আছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার বানভাসি মানুষেরা আশ্রয়, খাবার ও পানিয় জলের অভাবে দূর্দশাগ্রস্ত। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here