নোয়াখালী হাতিয়ায় সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যায়ে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয়রা।

0
6

নুরুন্নবী নবীন, নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মেঘনা নদীর ভাঙন অব্যহত থাকায় সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যায়ে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয়রা।

পাড় ভেঙে লোকালয়ের দিকেই এগোচ্ছে নদী। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্পও নেয়। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে গেছে সেই প্রকল্প। উপায় না পেয়ে নিজেরাই উদ্যোগী হলেন নদীর তীর রক্ষায় নদী পাড়ের মানুষ। নিজেদের টাকায় হাত দিলেন নদীর তীর রক্ষার কাজে। ফেলছেন জিও ব্যাগ। গত এক মাসে অনুদান জমা পড়েছে প্রায় ৬৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। যা সংগঠনের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে। এই জন্য গাজীপুরের একটি কারখানা থেকে দুই ধাপে আনা হয়েছে ২৪ হাজার জিও ব্যাগ। বালু ভর্তি ও ডাম্পিং এর জন্য রংপুর জেলা থেকে আসা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ৫০ সদস্যের একটি শ্রমিক গ্রুপ এই কাজ বাস্তবায়ন করছে।

আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কাজের শুরুর মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে এই দ্বীপের লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সম্প্রতি মেঘনার অব্যাহত ভাঙন হাতিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র আফাজিয়া বাজারের কাছাকাছি চলে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আফাজিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নদীতে আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রাথমিক আলোচনার পর গঠন করা হয় ‘হাতিয়া নদী শাসন ও তীর সংরক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’। সংগঠনের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশের চর ইশ্বর অংশে ৫০০ মিটার এবং পশ্চিম পাশে চরকিং অংশে ২০০ মিটারসহ ৭০০ মিটার এলাকায় নদীর তীর রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য পরামর্শ নেওয়া হয় পাউবো কর্মকর্তাদের। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা।

গত ৪ এপ্রিল ৫১ সদস্যের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনকে। সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে। তিনি ইতিমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৪ লাখ ঘনফুট বালু অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। পাউবোর নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দিন বলেন, আগে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে পাউবোর উদ্যোগে জিও ব্যাগ পেলে সুফল পাওয়া গেছে। সেই হিসেবে স্থানীয় লোকজন যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পাউবোর পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাউবোর একজন কর্মকর্তাকে সেখানে সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদারকি করার জন্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here