মাগুরার শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ!! তদন্তের আবেদন দুদকে

0
12

জিল্লুর রহমান সাগর বিশেষ প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার তারাউজিয়াল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ কওছার আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী অনেকেই। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ ও মানহানির বিচারের দাবি করেন সাবেক এই ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। সাবেক এই ইউনিয়ন কমান্ডার তারাউজিয়াল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম শেখের পুত্র। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, সব্দালপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ মোঃ কওছার আলী যুদ্ধকালীন সময়ে কোন প্রকার যুদ্ধাহত না হয়েও দীর্ঘদিন যাবত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছে এবং ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার থাকা কালীন অবস্থায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সরকারি ঘর দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা ।

পরিবারে তার একটি ছেলে থাকলেও নেই কোন ব্যক্তিগত চাকুরি বা প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া নেই কোন উপার্জন। অথচ বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন তিনি। এ বিষয়ে কখনো কোনো মুক্তিযোদ্ধারা কৈফিয়ত চাইলে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে হুমকিসহ নানা রকম ভয় ভীতি। এসব দুর্নীতিতে আমতৈল গ্রামের কাজী মোজাম্মেলের ছেলে কাজী ছানোয়ার হোসেনের যোগসাজসে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় সরকারি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থার কথা বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মজা ও মুক্তিযোদ্ধা আরশাদুল ইসলাম তুর্কির কাছ থেকে ৪০ হাজার ও ৪৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করনের স্বাক্ষীর জন্য ভয় দেখিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী খাঁ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আকামত আলির কাছ থেকে ৬৮ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মকছেদ আলী বিশ্বাসের গেজেটের ভুল সংশোধনের জন্য তার পরিবার থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে জামাল হোসেনের নাম ‘ক’ গ্রুপের তালিকায় দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন ৩০ হাজার টাকা।

এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার মৃত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মমতাজ বেগম, মৃত মাজেদ মোল্লার স্ত্রী রেবেকা বেগম ও মোঃ বাদশা মোল্যার কাছ থেকে ৬ হাজার, ৫ হাজার ও ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধারা দূর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৩১শে মার্চ ২০২১ ইং তারিখে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আরশাদুল ইসলাম তুর্কি জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কওছার আলী মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৪৯৯ কোন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নন। তিনি আমাদের প্লাটুনের একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি কোন যুদ্ধে আহত হন নাই। এমনকি আমাদের প্লাটুন কমান্ডার/সেকশন কমান্ডারও জানেন না যে, তিনি কোথায় কোন যুদ্ধে আহত হয়েছেন। তার শরীরে কোথায়ও কোন গুলি বা আঘাতের চিহ্ন নেই। তার পাড়া প্রতিবেশীরা জানেন তিনি গাছ থেকে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছিলেন। তিনি অসত্য তথ্য দিয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং-১৯২৯ সংগ্রহ করে গেজেটভূক্ত হয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা উত্তোলন করছেন। ।

তার দাবি অনুযায়ী ৮ নং সেক্টরের অধিনে গবরা নামক স্থানের যে যুদ্ধের কথা বর্ণনা করেন সে যুদ্ধে তিনি যোগদানই করেননি। তিনি স্বাক্ষী হিসেবে এই প্লাটুনের জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম না দিয়ে সেকশন কমান্ডার মৃত ইউনুচ আলী মোল্যা, সেকশন কমান্ডার মৃত রফিকুল ইসলাম রউফ ও মৃত হাফিজুর রহমান দুলালের নাম দিয়েছেন যারা অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এ বিষয়ে এ্যাম্বুশ যুদ্ধের প্লাটুন কমান্ডার শেখ সামসউদ্দিন আহম্মেদ জানান, কওছার আলী যে এ্যাম্বুশ যুদ্ধে আহত হওয়ার কথা বলেন সেখানে তিনি ছিলেন না। ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়মিতকরণ যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও জামুকার প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলেপ মোল্যা জানান, যাচাই-বাছাইয়ের সময় কওছার আলীকে যুুুদ্ধাহত হিসেবে প্রমাণ করতে বললে তিনি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা কওসার আলী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা মানহানি ও হেনস্তার শিকার বলে জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি গবরা নামক স্থানে এ্যাম্বুশ যুদ্ধে আহত হন।

যাচাই-বাছাই করনের সময় সাক্ষীদের কাছ থেকে তারা টাকা নেওয়ার জন্য উল্টো আমি প্রতিবাদ করি তার জন্য আমার উপর মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে আমাকে ও আমার ছেলেকে প্রতিনিয়ত হেনস্তা করাচ্ছে।আমি কোন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন করি নাই। আর সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ম্যোল্যা নবুয়ত আলী বলেন, কওসার আলীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলর করে আসছিলেন কিন্তু সে আসলেই যুদ্ধাহত একজন মুক্তিযোদ্ধা কিনা এটি এখনো সে প্রমাণ করতে পারিনি। এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো সে অস্বীকার করলেও তাকে সামনাসামনি ডাকলে সে কখনো আসে নাই। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তারাই বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে.।ইতিমধ্যে তাকে ইউনিয়ন কমান্ডারের পদে থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here