মোংলায় ভাইয়ের হাতে বোন জখম

0
21

 আলী আজীম, স্টাফ রিপোর্টার:

ভাই-বোনের সম্পর্কই সবচেয়ে মধুর। তবে মাঝেমধ্যে এই সম্পর্কেও ফাটল দেখা দেয়। বিশেষ করে বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে প্রায়ই ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এসব মামলায় বোনদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাই বেশি দেখা যায়। ভাইয়েরা ভেবে নেন বোনকে যেহেতু বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে বা হয়েছে, তাই বাবা কিংবা মায়ের সম্পত্তিতে তাঁদের আর কোনো অধিকার নেই বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার পশ্চিম শেহলাবুবিয়া জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইয়ের হাতে গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন তার আপন বোন।

আহত অবস্থায় নির্যাতিত নাজমার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা অজ্ঞান অবস্থায় মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। শুক্রবার(১৯ফেব্রুয়ারি) বিকালে মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শেহলাবুনিয়া,জিয়া সড়কে নিজ বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে। বাদী নাজমা জেসমিন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন,বিবাদী মোঃ রবিউল ইসলাম(৩৫),ইলোরা আজাদ (২৮) ও কালা চাঁন (৩৭),আমার ছোট ভাই,ভাবি ও তাদের ভারাটিয়া।আমি আমার পৈত্রিক এবং ক্রয়কৃত জমির উপর সেমি পাকা টিন সেড এর ঘর নির্মান করি,স্বামীর চাকরির সুবাদে আমি খুলনায় থাকি।আমি বাড়িতে না থাকায় বিবাদী উক্ত বাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে থাকে।তাছাড়াও পৈত্রিক সম্পত্তির বন্টন নিয়ে পূর্ব শত্রুতায় আমার দেওয়ালে বিবাদী সিসি কেমেরা লাগিয়ে রাখে আমার গতিপথ দেখার জন্য।আমি আমার বাড়িতে আসলে বিবাদী সিসি কেমেরায় আমায় দেখে তার ভারাটিয়া মোস্তান কালা চাঁনসহ এসে আমাকে দরজা বন্ধ করে বিবাদীর স্ত্রী অকথ্য ভাসায় গালিগালাজ করে এবং খুন জখমের হুমকি দেয়।আমি তাদের কথার প্রেক্ষিতে জবাব দিলে তাদের হাতে থাকা রড দিয়ে আমাকে বেধর মারপিট করে। মোংলা উপজেলা সহকারী মেডিকেল অফিসার অমিতভ সরকার বলেন,আমরা তাকে ভর্তি নিয়েছি এবং মোছাঃ নাজমা জেসমিন(৪০) বর্তমানে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয়রা জানান, মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দ রবিউল ইসলাম এর সঙ্গে তার ছোট বোন নাজমার সাথে বেশ কিছু দিন ধরে পৈতৃক জমিজমার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার বিকালে নাজমার জায়গা থেকে তার ভাইকে নির্মান করা দেওয়াল সরাতে বললে এসময় বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রবিউল ইসলাম ও তার ভারাটিয়ারা বোনকে মারধোর করে অঙ্গান করে ফেলে রাখে। স্থানীয়রা আরও জানান, আহত অবস্থাতেই নাজমা নির্যাতনের পর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আমরা তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই। অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম টিটু কে ফোন করলে তিনি বলেন,সত্যতাতো সিসি ফুটুজেই আছে,আমার বোনরা যা করতেছে আসলেই খারাব জিনিস।তারাই হিট করেছে,এই জায়গা জমির জন্য আমার সিসি কেমেরা ভেংগে ফেলেছে,আমার ছেলের গায়ে হাত দিয়েছে। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এর আগেও নাজমা জেসমিন মোংলা থানায় কয়েক দফা অভিযোগ ও জিডি করেও কোন প্রকার সুরাহ পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here