হাওরে নেই আতঙ্ক, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা

0
11

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বৈশাখ মানেই বৃষ্টি-বাদল, ঝড়-তুফান, শিলা বৃষ্টি, বজ্রপাত, প্রাণহানি, ফসল নষ্ট, পাহাড়ি ঢল,নদীতে উপচে পড়া ঢলের পানি। কিন্তু চলমান বৈশাখ মাসে এসব দুর্যোগ এর মোকাবেলা হতে হয়নি সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার কৃষকদের।

প্রকৃতি এবার কৃষকদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার বৈশাখ মানেই রৌদ্রজ্জ্বল দিন, রাতের বেলা দুচারদিনে ঝড়-ঝাপটা হলেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে পশ্চিমা চৈতালী গরম হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হলেও চোখে পড়ার মতো নয়। হাওরে এখন আর নেই আতঙ্ক,বৈশাখী সোনার ধান ঘরে তুলতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। চলতি বছরে করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন সহ কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও রয়েছে কৃষকদের জন্য নানাবিধ পরামর্শ ও বিভিন্ন সহযোগিতা। রয়েছে ধান কাটার তাগিদ।

এ বছর বৈশাখ মাসে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায়, কৃষকদের মুখে সোনা ঝরা হাসির যেন অন্ত নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাযায় এ বছর উপজেলার ২৩টি হাওরে চলতি মৌসুমে ১৭হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোর ধানের আবাদ হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫হাজার ৭৯০হেক্টর। সরেজমিনে উপজেলার মাটিয়ান হাওর, শনির হাওর, কাউজ্যাউরী হাওর সহ কয়েকটি হাওরে ঘুরে দেখা যায় চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এসব হাওরের কৃষকরা শ্রমিক নিয়ে ধান কাটছেন এবং এ-র পাশাপাশি কেউবা আবার যান্ত্রিক সাহায্যে ধান কাটছেন একই যন্ত্রে মাড়াই কাজটাও সেরে ফেলছেন।

ধান কাটা মাড়াই করা ও ধান শুকানো এবং শুকনো ধান গুলায় তুলা কাছে ব্যস্ত সময় পার করছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন রয়েছেন চিন্তামুক্ত। উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের কৃষক কপিলনুর মিয়া বলেন এবার ঝড়বৃষ্টি না হওয়ায় আমরা স্বস্তিতে ধান কেটে শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারতেছি। এইভাবে কয়েকটা দিন থাকলে আশাকরি কোন সমস্যা হবে না। বোরো ধানের ফসল ভাল হওয়ায় শুকরিয়া জানাচ্ছি। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের হাওর পাড়ের কৃষক মতিউর রহমান জানান, এ বছর হাওরে ঝড়-ঝাপটা না থাকায় সুন্দর ভাবে বৈশাখী ফসল স্বস্তিতে ঘরে তুলতে পারতেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here