নোয়াখালী হাতিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় মেম্বার প্রার্থী নিহত, আটক ২

0
5

নবীন, নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর বিছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় জোবায়ের হোসেন (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্য প্রার্থী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। নিহত জোবায়ের হোসেন মধ্য চরচেঙ্গা গ্রামের মৃত্য আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ৫নং ওয়ার্ডের আসন্ন ইউপি নির্বাচনের সদস্য প্রার্থী ছিলেন। শুক্রবার উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ জহিরুল ইসলাম ও সোনাদিয়া ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য নাছিমুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নে কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম। চলতি বছর নির্বাচনে তিনি সরকার দলীয় মনোনয়ন পাননি। এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান। চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবার মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে আছেন। এ নিয়ে নুরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রহিম নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী জানান, শুক্রবার বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে চরচেঙ্গা বাজারে জেলেদের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণ করা হয়। এসময় নৌকার প্রার্থী মেহেদী হাসানের অনুসারী ইউপি সদস্য প্রার্থী জোবায়েরসহ কয়েকজন চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়া ও অনিয়মের প্রতিবাদ করেন। এতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জোবায়েরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।

এঘটনায় আরও চার জন আহত হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় আহতরা হচ্ছেন ইরাক হোসেন, জীবন, আব্দুর রহিম ও আলাউদ্দিন। এদের মধ্যে ইরাককে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম নৌকার সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার স্থানীয় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণে ওজনে কম ও অনিয়মের প্রতিবাদ করলে নুরুল ইসলাম ও তার লোকজন আমার অনুসারী জোবায়ের, ইরাক, জীবন, আব্দুর রহিমসহ ১০-১২ জন লোকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় জোবায়েরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তারা। এব্যাপারে সোনাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিহত জোবায়ের একজন সন্ত্রাসী ও বিএনপির ক্যাডার ছিলেন। শুক্রবার চাল বিতরণের সময় জেলেদের চাল লুট করতে আসেন তিনি। এসময় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তিনি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পুলিশ আমার নিরপরাধ চাকরিজীবী প্রকৌশলী ছেলেকে ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসিমুল ইসলামকে আটক করেছে। আমি আটকদের মুক্তি দাবি করেছি।

হাতিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুক্রবার দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জোবায়ের নামের এক ব্যক্তি নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের আটকে অভিযান শুরু হয়েছে। এঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here