প্রবাসে সড়কদুর্ঘঠনায় মৃত্যু ঘর করার জায়গায় হলো দুই ভাইয়ের কবর।

0
19

তাপস কর,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।

কথা ছিল গেলো কোরবানি ঈদ সবাই মিলে নিজ বাড়িতে করবেন। সেই সাথে পূর্ব থেকে প্রস্তুত করে রাখা নির্ধারিত জায়গায় নির্মাণ করা হবে বসত ঘর। কিন্তু করেনায় আসা হলো না তাদের। তবে সেই আসা আসলেন, তবে লাশ হয়ে। ঘর করার জায়গায় হলো দুই ভাইয়ের কবর। গত মঙ্গলবার আমেরিকার বেলইউ নামক স্থানে এক সড়ক দুর্ঘটনায় রাসেল ও হিমেল নামে দুই ভাই নিহত হন। আজ সোমবার সকালে লাশ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের নিজবানাইল গ্রামের বাড়িতে এলে জানাজার পর দাফন করা হয়। এ সময় শোকে মূহ্যমান ছাড়াও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্ডীপাশাই উনিয়নের নিজবানাইল গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া ডিবি-১ পেয়ে ১৯৯১ সালে আমেরিকা যান। বর্তমানে নিউইয়র্ক শহরের এরোস্টিয়া নামক স্থানে বসবাস করে তিনি নির্বাচন কমিশনে চাকরি করছেন। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীসহ তিন ছেলে মোজাম্মেল হক রাসেল (৩৫), হিমেল আক্তার জয় (৩০), আমিনুল হক আপেল (২৫) ও মেয়ে সাদিয়া শাওলিন বৈশাখীকেও সেখানে নিয়ে যান। বড় ও মেজো ছেলে চাকরি করতেন। ছোট ছেলে ও একমাত্র মেয়ে এখনো পড়াশোনা করছেন। সুখের সংসার ছিল সিরাজুল ইসলামের। কিন্তু তার সুখের সংসার তছনছ করে দিল একটি সড়ক দুর্ঘটনা। জানা যায়, সাপ্তাহিক ছুটিতে তিন ভাই তাদের বন্ধু টাঙ্গাইলের শিহাবকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কানাডার নায়েগ্রা জলপ্রপাত দেখতে যান। সেখানে দুদিন অবস্থানের পর স্থানীয় সময় গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১টার দিকে ফেরার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনই আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রাসেল ও হিমেল মারা যান। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল রবিবার দুই ভাইয়ের লাশ দেশে আনা হয়। আজ সোমবার সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে পাড়া-প্রতিবেশি আত্মীয় স্বজনদের ভিড়। সামিয়ানা টানিয়ে ভিতরে রাখা সারি করা লাশের সামনে হাজারো মানুষ। কেউ কেউ দুই ভাইয়ের কথা স্মরণ করে চোখের পানি ফেলছেন। বাড়ির ভেতরে মহিলারা কান্নাকাটি করছেন। এ সময় নিহতদের চাচাত ভাই মোশাররফ হোসেন ভূইয়া জুয়েল জানান, তারা গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মারা যাবার খবর পান। তিনি বলেন, দুই ভাই খুবই অমায়িক স্বভাবের ছিল। বাড়িতে এলে সবার সাথেই মেলা মেশা করত। পরিবারে লোকজন জানান, সর্বশেষ করোনার আগে বাড়িতে এসে বসত ঘর করার পরিকল্পনা করে জায়গাও ঠিক করে রেখে গেছেন। বাকী ছিল শুধু নির্মাণ সামগ্রী এনে বসত ঘর নির্মাণ করা। তবে এখন সেই স্থানেই নির্মাণ করা হয়েছে দুইটি কবর। পাশপাশি দুই ভাই। এ দৃশ্য দেখে এলাকার লোকজন ছাড়া জানাজায় উপস্থিত সকলেই ডুকরে কেঁদেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here