ময়মনসিংহের নান্দাইলে আজ তিন ভাই শহীদ দিবস।

0
8
তাপস কর,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।
ময়মনসিংহের নান্দাইলে আজ তিন ভাই শহীদ দিবস ২৬ নভেম্বর এই দিনে ময়সনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় তিন ভাই শহীদ হয় । দেশ স্বাধীন হবার মাত্র কয়েকদিন পূর্বে আজকের এই দিনে খামারগাঁও গ্রামের তিন সহোদরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় বাড়ির বাৎসরিক তিন কামলা। এরপর তাদের আর হদিস পাওয়া যায়নি। দিবসটি উপলক্ষে তাদের গ্রামের বাড়িতে পূজা-অর্চনাসহ নাম সংকীর্ত্তনের আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের খামারগাঁও গ্রামের মৃত উপেন্দ্র চন্দ্র মজুমদারের তিনপুত্র যথাক্রমে খগেন্দ্র জীবন মজুমদার, হীরেন্দ্র চন্দ্র মজুমদার ও ভূপেন্দ্র চন্দ্র মজুমদার। বড়ভাই ছিলেন পল্লী চিকিৎসক। মেঝভাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন, আর ছোটভাই ছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই তাদের আত্মীয়-স্বজনরা ভারতে আশ্রয় নিলেও দেশ ও বাড়ির মায়া ছেড়ে যাননি তারা। বাড়িতে অবস্থান করে যুদ্ধের পক্ষে কাজ করতে থাকেন। বিভিন্ন সময় রাতের বেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। আর ওই বাড়িতে থাকতেন কয়েকজন বাৎসরিক কামলা। তাদের বাড়ি এলাকাতেই ছিল। পরে পাক বাহিনীদের সাথে হাত মিলিয়ে সহায় সম্পদ পাওয়ার আশায় রাজাকার হয়ে তিনভাইকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করতে থাকেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ওই চক্রটি কোনভাবেই সফল হতে পারছিল না। অবশেষে তাদের চক্রান্ত বাস্তবায়িত হয় ২৬ নভেম্বর।
উপজেলার কালিগঞ্জ রেলওয়ে ব্রিজ ঘাঁটি থেকে শতাধিক রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসের একটি দল ওইদিন ভোরবেলায় বাড়ি ঘেরাও করে তিন ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। ওই দিনই তাদের কিশোরগঞ্জ নিয়ে পাক-বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর আর তাদের কোনো সন্ধান বা লাশ পাওয়া যায়নি। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিন ভাইকে শহীদের মর্যাদা দিয়ে তাদের স্ত্রীর কাছে একটি করে সনদ ও কিছু আর্থিক সাহায্য পাঠিয়ে দেন। তখনকার সময়ের এই ঘটনা ছাড়া ওই তিন শহীদদের পরিবারকে আর কেউ স্মরণ করে না।
শহীদ হীরেন্দ্র চন্দ্র মজুমদারের পুত্র হিমাংশু মজুমদার জানান, দিবসটি উপলক্ষে তাদের বাড়িতে পূজা অর্চনার হরিনাম সংকির্তন,ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ সহ বিভিন্ন কর্মচুচীর মধ‍্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here