নোয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

0
72

শারমিন শাহরিয়ার ইতি চাটখিল উপজেলা প্রতিনিধি বিডি স্টার টিভি

– গাঙেয় পলিমাটি সমৃদ্ধ উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী।মেঘনার মোহনায় সমুদ্রের উদার স্পর্শে এ এলাকার মানুষগুলো হয়ে উঠেছে উদার,আতিথিপরায়ন আর কর্মঠ। আরবীয় ইংরেজ আর গ্রীক সভ্যতার মিশ্রনে নোয়াখালী শহর গড়ে উঠেছিল এক অপরুপ রুপসী সাজে।উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ভাঙন শুরু হয় এ জনপদ।মাইলের পর মাইল সেই ঐতিহ্যবাহী জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।তবে রয়ে গেছে অল্পকিছু নিদর্শন। নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, হরিনারায়নপুর জমিদার বাড়ি,,দৃষ্টিনন্দন বজরা শাহী জামে মসজিদ,,সোনাপুর লুর্দেন রানীর গির্জা,,উপহমাদেশখ্যাত সোনাইমুড়ির জয়াগে অবস্থিত গান্ধি আশ্রম,,তাছাড়াও রয়েছে নিঝুম দ্বীপ, মনপুরা দ্বীপ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও সৃতি জাদুঘর,মুছাপুর ক্লোজার। যেসব স্থানের জন্য নোয়াখালী বিখ্যাত সেগুলো হলো,,

নিঝুম দ্বীপ:-

নোয়াখালীর সর্বদক্ষিনের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জেগে উঠেছে একটি দ্বীপ।চারটি প্রধান দ্বীপ আর কয়েকটি চরের সমষ্টি নিয়ে গঠিত এ দ্বীপ।এরই নাম নিঝুম দ্বীপ।দেশী, বিদেশী পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।কেওড়া বন,বন্য হরিন আর অনিন্দ্যসুন্দর হওয়ায় নিঝুম দ্বীপ অনায়াসে সবার মন কেড়ে নেয়।

মুছাপুর ক্লোজার:-

নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ থানার মুছাপুর গ্রামে অবস্থিত মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমনপিপাসু মানুষের জন্য মনমাতানো একটি স্থান।বঙ্গোপসাগরেরর কোল ঘেসেঁ ও ফেনী নদীর পাশে অবস্থিত এটি।সমুদ্র সৈকতের অপরুপ প্রকৃতিতে চোখ ফেরালে দেখা মেলে পাখির ঝাঁক,বন্যপ্রানীসহ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।মুছাপুর ক্লোজার ও মুছাপুর ফরেস্ট দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও সৃতি জাদুঘর :-

মহান মুক্তিযুদ্ধেরর সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে একজন শহীদ মোঃ রুহুল আমিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির সন্তান।তার গ্রামে রয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত একটি গ্রন্থাগার ও সৃতি জাদুঘর। ২০০৮সালের ২০জুলাই এটি স্থাপিতত হয়।এতে একটি সুপরিসর ও সুসজ্জিত পাঠকক্ষ ছাড়াও আছে অভ্যর্থনা কক্ষ।তত্ত্বাবধায়ক ও লাইব্রেরিয়ানের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ।

বজরা শাহী জামে মসজিদ:

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৮কিঃমিঃ উত্তরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত বজরা শাহী জামে মসজিদ।দিল্লির শাহী জামে মসজিদের অনুকরনে নির্মিত হয়েছে এটি।দিল্লির সম্রাট বাহাদুর শাহ বেগমগঞ্জের বজরা অঞ্চলে জমিদারি দান করে ছিলেন তার দুই সহোদর আমান উল্যাহও ছানা উল্যাহ কে।তারা একটি দিঘী খনন ও মসজিদ নির্মানের জন্য ১০০একর জমিন বন্দোবস্ত দেন।শাহী জামে মসজিদের সম্মুখ ভাগেই সেই দিঘী।মার্বেল পাথরের তৈরী মসজিদটির প্রধান ফটকের দুই পাশে আছে দুইটি দেয়াল-ঘড়ি।অপরুপ সোন্দর্য্যমন্ডিত মসজিদ টি প্রদর্শন করতে নানান লোকের সমাগম ঘটে।

গান্ধী আশ্রম:-

গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন।জেলা সদর মাইজদী হতে প্রায় ২৫কিঃমিঃ উত্তরে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশেই এর অবস্থান।তৎকালীন জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে।এটি স্থাপিত হয়।১৯৪৬সালের শেষ ভাগে সারা ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে।তখন পশ্চিম বঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রভাব পড়ে নোয়াখালীতে।সেই থেকে ইতিহাসে গান্ধী আশ্রমের গুরত্ব অনেক।

ড্রিম ওয়ার্ড পার্ক:-

নোয়াখালীর উপকূলীয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশে দক্ষিন ধর্মপুর গ্রামে দৃষ্টিনন্দন গাছপালায় পরিবেষ্টিত প্রায় ২৫একর জায়গা জুড়ে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠে এই পার্ক।

নোয়াখালী শহীদ মিনার:-

নোয়াখালী জেলার সদরে অবস্থিত অন্যতম একটি নিদর্শন হলো নোয়াখালী শহীদ মিনার।নোয়াখালী জেলার হাতে গোনা কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ও তরুন মিলে কাদামাটি দিয়ে শহীদ মিনার স্থাপন করেন। ##জেলা জামে মসজিদ নোয়াখালী শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থান করছে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here