ফুলপুর ও তারাকান্দায় ভাষা সৈনিক শামসুল হকের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

0
17
মোঃ মিজানুর রহমান আকন্দ (ফুলপুর,ময়মনসিংহ)
২৭ শে মে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দায় ভাষা সৈনিক (মরনোত্তর একুশে পদক প্রাপ্ত), মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও পাঁচ পাঁচ বিপুল ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহমেদ এমপি সাহেবের গর্বিত পিতা মরহুম এম শামছুল হক এমপি সাহেবের ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে তারাকান্দায় বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ মাঠে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাষা সৈনিক মরহুম শামসুল হক সাহেবের সুযোগ্য পুত্র, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহমেদ এমপি। এসময় ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ফুলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা সৈনিক এম শামছুল হক এর ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এসময় কাজিয়াকান্দা কামিল মাদ্রাসা জামে মসজিদে কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, এম শামসুল হক ১৯৩০ সালের ২৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট সমীর উদ্দিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী। ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক ১৯৬৬ এর ৬ দফা, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তৎকালীন ময়মনসিংহ ১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ময়মনসিংহ -২ আসন থেকে সর্বমোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তৃণমূল থেকে ওঠে আসা ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেতার স্থানীয় জনগণের প্রতি ছিল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এই অবিসংবাদিত নেতা বিভিন্ন আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল সংগ্রামে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর খুব সহজেই সাধারণ মানুষকে নিজের করে তোলার মতো মন্ত্রমুগ্ধ ক্ষমতা ছিল। তিনি মরনোত্তর একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া খানম গৃহবধূ হয়েও তাঁর বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনে একটানা অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন ছেলে ও তিন কন্যার গর্বিত পিতা। তার পুত্র শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর, তারাকান্দা) সংসদীয় আসন থেকে ২০১৪ সালে দশম এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের মন্ত্রিসভায় শরীফ আহমেদ সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০১৩ সালে তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদ বিভাগের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এম শামসুল হকের মেয়ে শামসিয়ারা ইয়াসমিন, নাজনীন আহমেদ এবং অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী তুহিন আহমেদ পেশায় গৃহিণী। তাঁর দ্বিতীয় সন্তান (পুত্র) সাঈদ আহমেদ ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
২০০৪ সালে তিনি হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা যান। শামসুল হকের কনিষ্ঠ পুত্র সাজ্জাদ আহমেদ তারাকান্দা উপজেলার বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই মহান বীর ২০০৫ সালের ২৭ শে মে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরলোক গমন করেন। তারাকান্দা উপজেলার বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় ঘুমাচ্ছেন এই বীর সৈনিক। তার কীর্তিকে স্মরণ করে ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল সংলগ্ন স্থানে ভাষা সৈনিক শামসুল হক মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। আজীবন সংগ্রামী এবং অধিকার আদায়ে আপোষহীন এই মহান জননেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here