হেফাজত থেকে পদত্যাগ করলেন মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী এবং দেশে তান্ডবের বিচার চেয়েছেন

0
39

 মোঃ নাহিদ সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের জ্বালাও,ভাংচুর ও তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির নেতা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী।

তিনি হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। আজ সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়ে হেফাজতের তাণ্ডব ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন কাসেমী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়,তা নজিরবিহীন ও অমানবিক।

দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না।’ কাসেমী আরও বলেন,তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এসমস্ত কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সব মাদরাসার শিক্ষক-ছাত্রদের দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি। তিনি বলেন,বিভিন্ন স্থাপনায় হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাতে আমি এবং আমার মাদরাসার কোনও ছাত্র অংশগ্রহণ করেনি। আমি হেফাজতের চলমান কোনও কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। তাদের নাশকতামূলক কার্যক্রম অবৈধ মনে করি। এই হেফাজত নেতা বলেন,আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সব কার্যক্রম, জাতীয় ও জেলা কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করছি।

যাদের প্ররোচনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে,তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৮ মার্চ সারা দেশে হরতাল পালন করে হেফাজতে ইসলাম। সেই হরতাল ঘিরে ওইদিন সকাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক নাশকতা চালায় হেফাজত কর্মীরা। জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়,জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ চত্বরে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় আগুন দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। এছাড়া হরতাল সমর্থনকারীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়,ব্যাংক এশিয়া ও ওস্তার আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে ভাঙচুর,একটি মন্দিরের প্রতিমাও ভাঙচুর করে। এসব ঘটনায় পৃথক ৫৫টি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ৪১৪ জন আর অজ্ঞাতনামা আসামি ৩৫ হাজারেরও বেশি। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত এসব মামলায় ৩৪৬ জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here