কাপাসিয়ায় ১৭৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুচ্ছ পাঠ দান শুরু।

0
14

আকরাম হোসেন (রিপন) কাপাসিয়া, গাজীপুর

কাপাসিয়ায় করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৭৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ক্লাস রুমে নয় ক্লাস হচ্ছে স্কুল মাঠে। পাঠদান শুরু হওয়ায় খুশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সানজিদা আমিন জানান,মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের পরিকল্পনা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন স্যারের এর নির্দেশনা মোতাবেক গুচ্ছ পদ্ধতির এ পাঠদান শুরু হয়েছে এবং বিদ্যালয় খোলার আগ পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে পাঠদান একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমান করোনা কালীন সময়ে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য, শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার ব্যাপারে এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ছাত্র ও অভিভাবকদের হাতে ওয়ার্কসিট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্কসিটের মাধ্যমে সাপ্তাহিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে এতে শিক্ষার্থীদের পড়ার প্রতি আরো বেশি মনোযোগী করে তুলবে। পাবুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুসলিমা আক্তার সুইটি জানান, গত বুধবার থেকে এ গুচ্ছ পদ্ধতিতে ক্লাস শুরু করা হয়েছে এই কার্যক্রমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উৎসাহ ও সহযোগিতা পাচ্ছি।

ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম খান বলেন, এ গুচ্ছ পদ্ধতিতে ক্লাশ অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে। ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ এতে দারুন ভাবে খুশি। পাবুর সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম জানান, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এই পদ্ধতিতে পাঠদান শিক্ষার্থীরা হাসি মুখে শিক্ষা গ্রহন করছে। অভিভাবক শামিমা বেগম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে বিপথে যাচ্ছে এ পদ্ধতিতে পাঠদানের মাধ্যমে আমার মনে হয় শিক্ষার্থীরা বিপথে যাওয়া থেকে ফিরে আসবে। শিক্ষার্থীরা জানায় আমরা সরাসরি আমাদের স্যারদের কাছে পড়তে পেরে আমরা অনেক খুশি। আমাদের কাছে এটি স্বপ্ন মনে হচ্ছে।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ ইসমত আরা জানান” এই পদ্ধতিতে পাঠদান করোনা কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের যে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে তার কিছুটা অভাব পূরণ হবে বলে আমি আশা করি।” সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দা রাফিয়া সুলতানা জানান, “আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস্টারের বিদ্যালয় গুলোতে নিয়মিত অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম মনিটর করছি। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করছি। আশা করছি করোনাকালীন সময়ে উভয় পদ্ধতির পাঠদানে আমরা যথেষ্ট সুফল পাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here