নাটোরে ধানের বাম্পার ফলনেও সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা!

0
6

 মোঃ কামাল মাহমুদ বাগাতিপাড়া,(নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরে ধানের বাম্পার ফলন হলেও সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং লটারি সহ নানা হয়রানির কারণে ধান চাল সংগ্রহের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সংকট দেখা দিতে পারে সরকারি খাদ্য মজুদেও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় জেলায় এবার ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু এবছর তিন দফা বন্যায় তিন হাজার আট শ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বন্যার পরে ৬৩ হাজার৯শত ৫৯ হেক্টর জমিতে ধান হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার জানান, ইতিমধ্যে ৭৬% ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই বাঁকি ধান কর্তন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। এবারে তিন দফা বন্যার ক্ষতির পরেও এবারে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লক্ষ তের হাজার সাতশ উনিশ মে.টন এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লক্ষ নয় হাজার একশ ছেচল্লিশ মে.ট। ধানের বাম্পার ফলনে এবার কৃষকরা খুশি।

অন্যান্য বছরে ১৫ থেকে ১৭ আমন ধান উৎপন্ন হলেও এই বছরে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত রোপা আমন ধান উৎপন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টি থাকায় এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ধান উৎপাদনে খরচও কম হয়েছে। ধান কর্তনের সময়ে ধানের ভালো দাম থাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বা চাল বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের। ইতিমধ্যে সরকার ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল এবং ২৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। জেলায় এবার ৭ নভেম্বর থেকে ধান এবং ২৬ নভেম্বর থেকে চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তারা কোনো কার্যক্রম শুরুই করতে পারেননি। এবারে জেলায় আট হাজার ছয় শত বত্রিশ মেট্রিক টন চাল এবং তিন হাজার একশ আঠাশ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় ধান-চাল সরবরাহকারী তালিকাভ‚ক্ত ৩৪২ মিলার রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র চারজন মিলার ২৭০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহে চুক্তি করেছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ১৩% ধান এবং ৮৭% চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। এবারেও রোপা আমন সংগ্রহ তেমনটি আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মন্ডল জানান, খুব শিঘ্রই আমরা ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করব। সেসময় সকল মিলার চুক্তির আওতায় আসবে।

কতজন মিলার চাল সরবরাহে চুক্তি করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাত্র চারজন মিলার ২৭০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহে চুক্তি করেছে। কতজনকে সম্পৃক্ত করা যাবে -এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যেহেতু আমরা ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করিনি তাই এই মূহুর্তে বলা সম্ভব হবেনা। বর্তমানে বাজারেই এর চেয়ে বেশি মূল্য থাকায় বেশিরভাগ কৃষকই সরকারি খাদ্য গুদামে ধান চাল দিতে উৎসাহ বোধ করেন না। কাঁকফো গ্রামের কৃষক লায়েব উদ্দিন জানান, বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চেয়ে বেশি মূল্যে আমরা ধান বিক্রি করতে পারছি। ব্যবসায়ীরা আমাদের বাড়ি থেকেই ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে যাইনা। বেশিরভাগ বর্ধিষ্ণু কৃষক কর্তনের সময় ধান বিক্রি করেন না। ধার কর্জ করে আবাদ করায় ক্ষুদ্র কৃষকরা তাদের জরুরী প্রয়োজনে ঋণের চাপে স্বল্পমূল্যে ধান বিক্রি করেন। তখন সরকারি কোনো সংস্থা ধান কেনা শুরু করেনা। নাটোর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি তোজাম্মেল হক জানান, বগুড়াতে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি- এই রেটে আমরা চাল দিতে পারবনা। আমরা সরকারি লোকজন কে মিলিং করে দেখিয়ে দিয়েছি একমণ ধানে ২৬ কেজি চাল উৎপন্ন হয়। তাতে প্রতি কেজিতে দাম পড়ে ৪১ টাকা। তাহলে আমরা কি করে ৩৭ টাকায় চাল দেব। সরকার ধান-চাল সংগ্রহের সময় বৃদ্ধি কররেও আমাদের অপর দাবি চালের মূল্য বৃদ্ধিটা মেনে নেয়নি। তাই আমাদের পক্ষে চাল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এরকম নানা সমস্যার কারণে ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছেন সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here